নতুন দলের পক্ষে বেশির ভাগ মানুষ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:২৫  

দেশে মাঠ জরিপ ও অনলাইন জরিপে দেখা যাচ্ছে সুস্পষ্ট ব্যবধান। মাঠ পর্যায়ে যখানে এক তৃতীয়াংশ এখনো নিশ্চিত নন কাকে ভোট দেবেন। সেখানে অনলাইনে অংশ নেয়া ১১ শতাংশ নিশ্চিত নন তারা কাকে ভোট দেবেন।  তবে দুই ধরনের জরিপেই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা কমেছে নাগরিকদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই জরিপ ফল তুলে ধরেন ইনোভিশন কনসাল্টিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাবাইয়াৎ সারওয়ার। গত ২৯ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ৫০টি জেলার ৫১১৫ নমুনা ও অনলাইনে প্রাপ্ত ৬৪টি জেলার ৩ হাজার ৫৮১ নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে জরিপ ফল প্রকাশ করা হয়।

এসময় তিনি জানান, বর্তমান সরকার জনমত প্রকাশে বাধা দেবে না অনুমান না করেই এই পোলিং এর আয়োজন করা হয়েছে এবং আগামীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মিলে জরিপ করার ইচ্ছে রয়েছে। তিনি বলেন, জেন-জি প্রজন্মের বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কখনো অংশ নেয়নি। অথচ তাদের নেতৃত্বেই হয়েছে জুলাই বিপ্লব। ঠিক এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন হলে জনগণের অভিমত কেমন হতে পারে প্রশ্নের উত্তর আমাদের টেকসই রাজনৈতিক সংস্কারের একটা রূপরেখা দিতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত অনলাইন জরিপ বলছে, অনলাইন জরিপের ৯২ শতাংশই জেন-জি এবং মিলেনিয়াম। অংশগ্রহণকারী ৩ হাজার ৫৮১ জনের ফলাফল যাচাই করে দেখা যায়, ৩৫ শতাংশ ছাত্র সমর্থিত দলগঠনের পক্ষে রয়েছে। এখানে ২৫ শতাংশ জামায়েতে ইসলামি বাংলাদেশকে এবং ১০ শতাংশ বিএনপি-কে ভোট দেবে। তবে ১১ শতাংশই এখনো নিশ্চিত নন কাকে ভোট দেবেন। জরিপে জামায়াতে ইসলামীকে ২৫ শতাংশ, আওয়ামী লীগকে ১০ শতাংশ, বিএনপিকে ১০ শতাংশ, স্বতন্ত্র ৩ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ১ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। তবে অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১০ শতাংশ এখনো নিশ্চিত নন তারা কাকে ভোট দেবেন। এছাড়া তাদের কেউ জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানাননি। পাশাপাশি অন্যান্য দলকে ১ শতাংশ ও কাউকেই ভোট না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩ শতাংশ মানুষ।

তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যায় এই ভোটার ফলাফলে অনলাইনে সঠিক ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংবাদ মাধ্যমে উপস্থিত গণমাধ্যমকারীরা। তাদের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বাংলাদেশ স্পিকস-এ জানানো হয়, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে উভয় ক্যাটাগরিতেই জরিপ করা হয়েছে। তথ্যসংগ্রহের জন্য কবো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়েছে।

এই জরিপ ফলাফল নির্ভর নয়; সমাজের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা বলেই জানিয়েছেন আয়োজকরা।

মাঠপর্যায়ের জরিপে জামায়াতে ইসলামির ভোট মাত্র ১৪ শতাংশ। বিএনপি এক্ষেত্রে ২১ শতাংশ। কিন্তু সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশই এখনো নিশ্চিত নন কাকে ভোট দেবেন। এছাড়া তাদের মধ্যে ১০ শতাংশ ছাত্র-সমর্থিত নতুন দলকে, ৫ শতাংশ আওয়ামী লীগ, ৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ও ৩ শতাংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আট বিভাগের মাঠ ও অনলাইন জরিপে দেখা গেছে স্থান অনুযায়ী নিজ নিজ ঘাঁটিতে শক্তি বাড়ছে।

জরিপের ফলাফলের স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গালিব মহিউদ্দিন। গবেষণা উপদেষ্টা হিসেবে উপিস্থিত ছিলেন ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, অনলাইন ভোট পুরো সমাজকে উপস্থাপন না করলেও জেন জিকে ভালোভাবে কাভার করে। ফলে অনলাইনকে অগুরুত্বপূর্ণ ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশে জনমতের সঠিক পর্যালোচনা ভীষণ জরুরী।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন কলামিস্ট জ্যোতি রমন। তিনি বলেন, তরুণরা আওয়ামীলগ কিংবা বিএনপি পছন্দ করে না তাতে আশ্বর্য হওয়ার কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা স্পষ্ট। জেন-জি ও মিলেনিয়ালস প্রজন্মের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ প্রজন্মের মতামতে ভেদাভেদ, নারী ও পুরুষের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা এবং অনলাইন মতামতের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের মতামতের পার্থক্য পর্যালোচনা ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হবে।

মাঠপর্যায়ের এই জরিপ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষক ও শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা প্রায় কাছাকাছি। তবে অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ শিক্ষার্থী, বেকার ও বেসরকারি চাকরিজীবীর কাছে জনপ্রিয়তায় জামায়াত এগিয়ে। অপরদিকে এলাকাভিত্তিক ফলাফল বলছে,